গাজায় ইসরাইলের টানা গুলিবর্ষণে গাজাবাসী বাড়িঘর ছেড়ে ঠাই নিয়েছেন জাতিসংঘের আশ্রয় শিবিরগুলোতে। এরপরও তাদের শেষরক্ষা হচ্ছে না। সেখানে আশ্রয় শিবিরগুলোও হামলার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। ঠিক সেই মুর্হুতে আলেম-ওলামাদের কাছে টানতে এবং সরকারের জনপ্রিয়তা অর্জনের লক্ষ্যে গাজায় প্রতিনিধি দল পাঠানোর ঘোষণা দেয় ১৪ দল। এ ঘোষণা দিয়ে অনেকটাই বেকায়দায় পড়েছে ক্ষমতাসীন এ জোট।
গত ১০ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডীস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠকে জোটের মুখপাত্র ও দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ ঘোষণা দেন।
কিন্তু ঘোষণার প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো গাজায় প্রতিনিধি দল পাঠানোর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। গাজা সফরের বিষয়টি আওয়ামী লীগের ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এখনো। অনেকে আবার এই ঘোষণা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন।
জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি দল পাঠানোর ঘোষণা যে আসলে বাস্তবসম্মত ছিল না তা এখন বোঝা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তখনই ১৪ দলের এই ঘোষণার সমালোচনা করে বলেছিলেন, যেখানে গাজাবাসীই তাদের বাড়িঘরে থাকতে পারে না, সেখানে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি দল কোথায় গিয়ে থাকবে। কীভবে সাহায্য করবে?
৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি আরো বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ইসরাইল। তবে ইতোমেধ্যই ঝরে পড়েছে ১ হাজার ৭ শত অধিক বেসামরিক মুসলমান নাগরিক। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ১৪ দলের এই ঘোষণাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বলে অবহিত করেছেন। তবে গাজাবাসীর প্রতি সহমর্মিতা জানাতে প্রতিনিধিদল পাঠানোর ঘোষণা দেয়ার পর চার সপ্তাহ কেটে গেলেও ১৪ দলের অনেক নেতারাই জানেন না কখন পাঠানো হবে প্রতিনিধি।
এ বিষয়ে ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল পরিবর্তনকে বলেন, “কখন এবং কয়জন প্রতিনিধি পাঠানো হবে এ ব্যাপারে আগামী বৈঠকে আলোচনা করা হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কখন হবে সে ব্যাপারে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে অতিশীঘ্রই ১৪ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।”
অপরদিকে আরেক শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া পরিবর্তনকে বলেন, “স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে এই ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছিল। এর পর থেকে আমি কিছুই জানি না।”
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হাসান বাদশা পরিবর্তনকে বলেন, “আমরা অচিরেই দলীয় ফোরামে এ ব্যাপারে আলোচনা করবো। তারপর বলতে পারবো কখন যাবো।”
এ বিষয়ে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ারা হোসেন পরিবর্তনকে বলেন, “ফিলিস্তিনে গিয়ে গাজার জনগণকে সাহায্য সহযোগিতা করার মত অবস্থা সেখানে নেই। আর যদি সাহায্য সহযোগিতা করতেই হয় তাহলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাহায্য নিতে পারতো তারা।”
তিনি বলেন, “গাজা সফর নিয়ে ১৪ এই বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছিল বলে আমার মনে হয়। আর যদি তা না হয়, তাহলে কেন এত দিন গাজা সফরে যাওয়া নিয়ে কোন পদপে নেয়নি।”
এ প্রসঙ্গে ১৪ দলের মুখপাত্র দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম পরিবর্তনকে বলেন, “আমরা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব।”
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের গাজা যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এ সময় তিনি বলেন, “গাজায় যে ঘটনা ঘটছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না। এটা মানব ইতিহাসের জঘন্যতম হামলা। কয়েকটি দেশ তার পরও এতে মদদ দিচ্ছে, যা দুঃখজনক। অবিলম্বে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড বন্ধে বিশ্বশক্তির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”