হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে মোটা ব্যক্তি আন্দ্রে মরেনো। ৩৮ বছর বয়সী মরেনোর সর্বোচ্চ ওজন ছিল ৪৪৪ কেজিরও বেশি! ২৫ই ডিসেম্বর অর্থাৎ বড়দিনের সকালে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। এক বিবৃতিতে তার প্রচারক কার্মেন পালাসিওস বলেন, বড়দিনে সকাল সাড়ে ৮টায় অ্যাম্বুলেন্সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে আন্দ্রের। এ খবরে আমরা ব্যথিত। মৃত্যুর সময় অবশ্য তার ওজন ছিল ৩১৭ কেজি। আজ তার মাতৃভূমি মেক্সিকোর সেনোরায় তাকে সমাহিত করা হবে।
নিজের বিশালাকার শরীর নিয়ন্ত্রণে মৃত্যুর আগে প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন মরেনো। এমনকি তাকে অনুপ্রেরণা দিতে মাত্র মাসখানেক আগে ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো নিজের স্বাক্ষরিত রিয়াল মাদ্রিদের একটি জার্সি পাঠিয়েছিলেন। এ উপহার পেয়ে আনন্দে কেঁদেছিলেন মরেনো। তখন মরেনো বলেছিলেন, আমি সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই, বিশেষ করে রোনাল্ডোকে। অনেক সময় মনে হবে মানুষ একে অপরের কাছ থেকে কতই না দূরে থাকে। কিন্তু আমার বেলায় তা হয়নি। আমি যেন বড়দিনের আগেই বড়দিনের উপহার পেয়ে গেছি!
নিজের চেষ্টায় ১২০ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন মরেনো। এরপরই মেক্সিকোর একটি হাসপাতালে একটি ওজন কমানোর অস্ত্রোপাচার হওয়ার কথা ছিল তার। ওই অস্ত্রোপাচারের আগেই নিজের অটোগ্রাফ সম্বলিত জার্সিটি তাকে পাঠান রোনাল্ডো। অস্ত্রোপাচার হওয়ার পর তার ওজন ৩৬২ কেজি কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছিল। এর ফলে তার ওজন হতো মাত্র ৭৯ কেজি। আর তাতেই নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারতেন মরেনো। পেতেন মনের মতো এক বউ, শুরু করতেন সংসার। কিন্তু তা আর হলো কই?
অস্ত্রোপাচারের আগেই মরেনো জানতেন এতে ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি সব ঠিকঠাক না থাকলে, মৃত্যুও হতে পারে তার। এসব জেনেই শল্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। কারণ, অস্ত্রোপাচার না হলে, সর্বোচ্চ ৫ বছর বেঁচে থাকতেন তিনি। তার ইচ্ছা ছিল, সুস্থ হলে একটি সংগঠন খুলবেন তিনি, যেখান থেকে সাহায্য দেওয়া হবে স্থুলকায় মানুষদের। কিন্তু সেসবের কিছুই পূরণ করে যেতে পারলেন না তিনি।
বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা পেল দেড় হাজার রোগী