তীব্র গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগের শিকার ফেনীর গ্রাহকরা। প্রতিদিনের রান্না নিয়ে একদিকে বাসা বাড়িতে ভোগান্তির শেষ নেই, অন্যদিকে গ্যাস নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণতে হচ্ছে লোকসান। এদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, জাতীয় সমস্যা তাই স্থানীয়ভাবে সমাধানের সুযোগ নেই।
‘সকাল ৬টা বাজে গ্যাস চলে যায় আর বিকেল ৫টায় নিভু নিভু জলে গ্যাসের চুলা’ এমনটি বললেন গ্রাহকরা।
ফেনী শহরের পেট্রল বাংলা এলাকার এই গৃহিণীর মত প্রতিদিনের রান্না নিয়ে এমন ভোগান্তি শহরের হাজার হাজার পরিবারের। বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানির তথ্য মতে, ফেনী জেলার সোনাগাজী ছাড়া বাকী ৫টি উপজেলা ও নোয়াখালীর বসুরহাট এলাকা নিয়ে তাদের আবাসিক গ্রাহক ১৯ হাজার ৩’শ ৬৩ জন। এর মধ্যে একক চুলা ২ হাজার ৯’শটি এবং দ্বৈত চুলা ৫২ হাজার ৯’শ ৮২ টি।
গ্যাসের প্রধান লাইনের আশপাশের গ্রাহকদের গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা থাকলেও দূরবর্তী শাখা লাইনগুলোতে একেবারেই অপ্রতুল। ফলে পরিবারগুলোতে দুর্ভোগের শেষ নেই।
গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, ‘সময়মতো গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাসের অভাবে প্রায়ই হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হয়।
এদিকে বাণিজ্যিকভাবে ৩’শ ৩৩টি এবং ২৭টি শিল্প সংযোগের পাশাপাশি ১২টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনেরও একই অবস্থা। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রতিনিয়ত গুনছেন লোকসান এমনই অভিযোগ তাদের।
গ্রাহকরা বলেন, গ্যাসের অভাবে সিএনজি ঠিকমতো চালাতে পারি না, কারখানা বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে।
অবশ্য বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ফেনীর ব্যবস্থাপক জানালেন, উৎপাদন না বাড়ালে তাদের করণীয় কিছুই নেই।
বাখরাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোঃ আজাহারুল আলম জানান, ‘উৎপাদন কম হওয়ায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এটি জাতীয় সমস্যা বলে অভিহিত করেন।
বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানির তথ্য মতে, প্রধান লাইনে গ্যাসের প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে সর্বনিম্ন ৯’শ ৬০ পাউন্ড চাপ থাকার কথা থাকলেও এখন চাপ থাকছে সবোর্চ্চ ৩শ’রও কম।