ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহারে সতর্কতার অভাবে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম। প্রতারণা ও সম্মানহানির শিকার হয়ে এমনকি আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে অনেকে। সারাদেশে একটি মাত্র সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল থাকলেও তার নির্দিষ্ট এজলাস না থাকায় বিচার প্রার্থীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে জানান পিপি। এছাড়া প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে এ ধরনের অপরাধ দমনে সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না পুলিশ।
তথ্য প্রযুক্তির প্রসারতায় ফেইসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এখন মানুষের নিত্য সঙ্গী হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুঠো ফোনে এসবের ব্যবহার দেখা যায় সবচেয়ে বেশি। তবে, এ প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক।
ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ও ফেইসবুকে নগ্ন ছবি আপলোড করার মাধ্যমে সংঘটিত সাইবার ক্রাইমের খবর প্রায়ই শোনা যায়। তবে, আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করে অভিযোগ না করায় এধরনের অপরাধ বন্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই পুলিশের।
ডিএমপি পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, “ফেইসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নগ্ন ছবি ছেড়ে দিয়ে হুমকি প্রদানের ঘটনাগুলো সীমা-হীনভাবে ঘটছে। এসব ব্যাপারে পুলিশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।”
এ ধরনের অপরাধ বন্ধে ২০০৬ সালে প্রণয়ন করা হয় সাইবার ক্রাইম আইন। তবে, ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলেও নিজস্ব কোনো এজলাস না থাকায় এ বিষয়ক আদালত ঠিক মতো কাজই শুরু করতে পারেনি।
পিপি সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল নজরুল ইসলাম শামীম জানান, খুব শীঘ্রই এই সাইবার ক্রাইমের এজলাস দেয়া হবে।
পিপির মতে, এ আইনে সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তা যথেষ্ট নয়।