কথিত নিখোঁজ হেফাজত কর্মী আল ফারুককে উদ্ধারের মধ্য দিয়ে আবারো প্রশ্নের মুখে পড়েছে ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরের ঘটনার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের বহুল আলোচিত সে তালিকা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিসকিন শাহ মাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ। অথচ হেফাজতসহ বিএনপি-জামায়াত ঘরানার বিভিন্ন এনজিও’র তালিকায় নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিলো মাদ্রাসা ছাত্র আল-ফারুককে।
২০১৩ সালের ঢাকার শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলো মাদ্রাসা ছাত্র আল-ফারুক। ওই রাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেফাজত কর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলেও আল ফারুক আর তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা ফিরে যায়নি। এমনকি মৃত হিসেবে বিবেচনা করে গ্রামের বাড়িতে গায়েবানা জানাজা ও কুলখানিও করেছে তার পরিবার। কিন্তু এক মাস আগে ফারুকের পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লার চান্দিনা থানায় দায়ের করা একটি জিডি পুরো রহস্য উন্মোচন করে দেয়।
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার কুসুম দেওয়ান জানান, ফারুকের বাবা-মা এসে তার সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে অবগত করেন, পরে সেই সব স্থানে ফোর্স নিয়োগ করা হয় এবং তাকে পেয়ে যায় পুলিশ’।
আল-ফারুক দাবি করছে, পড়া-লেখা ভালো না লাগায় সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো। অথচ বিএনপি এবং জামায়াত সমর্থিত এনজিওগুলোর তৈরি করা নিখোঁজের তালিকায় নাম রয়েছে এ আল ফারুকের। এমনকি তার ভাষ্যমতে তিনি হেফাজতের মিটিং মিছিলে যাননি এবং এই কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি সম্পৃক্ত নন’।
দীর্ঘ ১৯ মাস পর কথিত নিখোঁজ আল-ফারুক উদ্ধার হওয়ার পর কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে হেফাজতে ইসলাম। এর একটি ব্যাখ্যাও দাঁড় করালেন সংগঠনের মুখপাত্র আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি বলেন, ‘লেখাপড়া ভালো না লাগলে ছাত্ররা এর থেকে দুরে থাকার জন্য ভিন্ন পথ বেছে নয়, আমার মনে হয় এই ফারুক এক্ষেত্রে ৫ তারিখকে ব্যবহার করেছে’।
উদ্ধারকৃত হেফাজত কর্মী আল ফারুককে বৃহস্পতিবারই চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে।