দেশের কোনো কোনো অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, পাবনা, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রার পারদ ১০-এর নিচে নেমে গেছে। বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুই দিন এভাবেই চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাজশাহী, সৈয়দপুর ও দিনাজপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আমাদের জেলা প্রতিনিধিরা জানান, বৈরী আবহাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে প্রচ- দুর্ভোগ। শিশুসহ লোকজনের মধ্যে ঠা-াজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরে ঘরে সর্দি জ্বর, ঠা-া কাশি, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, আমাশয়, জন্ডিস ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কুয়াশা আর শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা। তীব্র শীতে কাজের সন্ধানে বাইরে বের হতে পারছেন না তারা। গতকাল সূর্যের দেখা পাওয়া যায়নি উত্তরের জেলা পঞ্চগড় এবং ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায়। ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল মাদারীপুর ও টাঙ্গাইলের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর। আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন অনেকেই। তারা জানান, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতবস্ত্রের দামও। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল, অসহায়, দুস্থ শীর্তাত মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানী ঢাকায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই মৌসুমে ঢাকায় এটি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়াবিদরা জানান, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, সৈয়দপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও শ্রীমঙ্গল অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর বিভাগেও তা আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা রংপুর বিভাগে সামান্য কমতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও সমান তালে চলছে শীতের দাপট। টাঙ্গাইলে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মাদারীপুরে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফরিদপুরে ১১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর ময়মনসিংহে ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ওইদিন দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহীতে ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঈশরদীতে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিনাজপুরে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বগুড়াতে ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সৈয়দপুরে ৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রংপুরে ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চ চাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
নীলফামারীতে কনকনে শীত
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, দমকা হাওয়ার শৈত্যপ্রবাহের কনকনে হাড় কাঁপানো শীতের কবলে পড়েছে হিমালয় পর্বত সংলগ্ন উত্তরের তিস্তা বিধৌত নীলফামারীসহ এর পার্শ্ববর্তী এলাকা। ফলে শীতে মানুষ কাঁপছে, কাঁপছে গবাদি পশুসহ পাখ-পাখালি। শীতের দাপটে মানুষের হাত-পা যেন কুঁকড়ে যাচ্ছে। এদিকে শীতের কামড়ে পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানে শুধু ছিন্নমূল মানুষ নয়, মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্তরাও ভিড় করেছে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে নিম্নআয়ের মানুষজনকে। শহরের অভিজাত বিপণি বিতানের তুলনায় শীতের পুরনো গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি। সকাল থেকে এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নিম্নআয়ের মানুষ ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকায় গরম কাপড় পেয়ে খুশি।
মঙ্গলবার রাত থেকে টিপ টিপ বৃষ্টির পর শুরু হয় দমকা বাতাস। বৃহস্পতিবার ভোরে ভারী কুয়াশা দেখা না গেলেও কালো মেঘের কারণে সূর্যের মুখ দেখা মেলেনি। সকাল থেকেই শৈত্যপ্রবাহ কুয়াশা ও দমকা বাতাসের তোড়ে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। শীতে কর্মজীবী নিম্নআয়ের মানুষকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়। শীতের হাত থেকে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের রক্ষার জন্য বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সীমিত খরচে গরম কাপড় কিনতে ভিড় করে পৌর মাঠের দোকানগুলোয়।
মাঠের অস্থায়ী দোকানদার রইছ উদ্দীন জানান, শীত বৃদ্ধি পাওয়ায় গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। তিনি জানান, পুরনো শীতের কাপড়ের দাম কম হওয়ায় গরিব মানুষ বেশি ভিড় করে। তার দোকানে ১৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায় জ্যাকেট, গেঞ্জি, চাদরসহ বিভিন্ন গরম পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। অপর ব্যবসায়ী তারেক জানান, শীতের গরম কাপড় সস্তায় বিক্রি করায় তার দোকানে অল্প আয়ের মানুষেরই বেশি ভিড় থাকে। তিনি জানান, বর্তমানে সোয়েটার ৩০ টাকা, জ্যাকেট ১০০ টাকা, গেঞ্জি ৫০ টাকা, প্যান্ট ৭০-৮০ টাকা ও বেস্নজার ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে ২০ থেকে ৫০ টাকা দামের মধ্যে বেশি পরিমাণ পোশাক বিক্রি হচ্ছে। শীতের গরম পোশাক কিনতে আসা হিরামন বালা, চৈতী রানী, হিরম্ব রায়, বশির উদ্দিন জানান, দাম কম হওয়ায় তারা পরিবারের জন্য শীতের গরম পোশাক কিনতে এসেছেন। তিনি জানান, পরিবারের মানুষের আয় কম থাকায় নতুন পোশাক কেনা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। তাই নিজে ও তার স্ত্রীর জন্য পোশাক কিনতে এসেছেন গ্রাম থেকে। –
আশিকুর রহমান চৌধুরী স্বদেশ নিউজ২৪,কম