তাজউদ্দীন খুনিদের প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন

5ac0cbf1dac5ff2588eaf3efb68454a7-3পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে আসবেন—এ রকম একটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে ধোয়ামোছার কাজ চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন এমএ দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষা চলছিল। ছাত্র-শিক্ষক সবাই ব্যস্ত।
বিপ্লবী গণবাহিনীর ঢাকা নগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বেশ তৎপর হয়ে ওঠে। শেখ মুজিবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন উপলক্ষে একটা শক্তির মহড়া দেওয়ার চিন্তা করা হয়। কিন্তু তেমন কোনো বিক্ষোভ বা মিছিলের পরিকল্পনা করা যায়নি।
চুয়াত্তরের নভেম্বরে বোমা বানাতে গিয়ে তরুণ জাসদ নেতা ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের লেকচারার নিখিল রঞ্জন সাহা নিহত হন।তাঁর নামে ওই বোমার নামকরণ হয় ‘নিখিল’।নিখিলের প্রস্তুতপ্রণালি ছিল স্থূল। ঢাকা নগর গণবাহিনীর কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ‘নিখিল’ ইমপ্রুভাইজ করেন।আনোয়ার হলেন গণবাহিনীর ফিল্ড কমান্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের ছোট ভাই, তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে লেকচারার হিসেবে কর্মরত। রসায়ন তিনি ভালো বোঝেন। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের আগমন যাতে নির্বিঘ্ন না হয়, সে জন্য তাঁর নির্দেশে গণবাহিনীর সদস্যরা ১৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে তিনটি ‘নিখিল’ ফোটায়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের কাছে, একটি সায়েন্স অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ের চত্বরে এবং তৃতীয়টি কার্জন হলের সামনে। এর ফলে কিছু হুড়োহুড়ি এবং হইচই হয়। তবে তা ছিল ক্ষণস্থায়ী।
১৫ আগস্ট ভোরবেলা ঢাকা শহরের অনেক অধিবাসীর ঘুম ভাঙে গোলাগুলির আওয়াজে। দিনটি ছিল ৩০ শ্রাবণ, শুক্রবার। রেডিওতে ঘোষণা শোনা যাচ্ছিল: আমি মেজর ডালিম বলছি। স্বৈরাচারী শেখ মুজিবকে উৎখাত করা হয়েছে। সারা বিশ্বে কারফিউ জারি করা হয়েছে। উত্তেজনার বশে ডালিম সারা বিশ্বে কারফিউ জারি করে দিলেন। তিনি ঘোষণা শেষ করলেন ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ ধ্বনি দিয়ে। ঢাকা বেতারে ‘জিন্দাবাদ’ শোনা গেল প্রায় ৪৪ মাস পরে।
ধীরে ধীরে ১৫ আগস্টের ঘটনার বিবরণ প্রকাশ হতে থাকল। জানা গেল, সেনাবাহিনীর একদল জুনিয়র অফিসার এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। তাঁদের নেতা মেজর ফারুক রহমান ও মেজর খন্দকার আবদুর রশিদ। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন আরও কয়েকজন মেজর, ক্যাপ্টেন, লেফটেন্যান্ট ও জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার। তাঁদের অনেকেই সেনাবাহিনী থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছিলেন। এই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা। পরে তাঁকে মেজর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। হুদা ১৯৬৫-৬৭ সালে ঢাকা কলেজের ছাত্র ছিলেন। তখন তিনি ছাত্রলীগ করতেন। উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। ছাত্র থাকাকালীন তিনি সেনাবাহিনীর ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। তাঁর কলেজজীবনের অন্তরঙ্গ বন্ধুদের একজন ছিলেন আবদুল বাতেন চৌধুরী। বাতেন জাসদের ঢাকা নগর পার্টি ফোরামের অন্যতম সদস্য। তিনি মুহসীন হলের ৩-এ নম্বর কক্ষে থাকতেন। হুদা বাতেনের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। বাতেন স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রলীগের সদস্য এবং ১৯৭২-৭৩ সালে এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁর স্মৃতিচারণা থেকে এখানে উদ্ধৃত করা হলো:
১৩ আগস্ট বিকেল তিনটায় সেনা গোয়েন্দা দপ্তরের (ডিএমআই) ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা অসামরিক পোশাকে মুহসীন হলে আমার
কক্ষে এল। সে ঢাকা শহরের দায়িত্বে ছিল। আমরা সূর্য সেন হলের ক্যানটিনে গিয়ে চা খেলাম এবং তারপর রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে একটা গাছের নিচে ঘাসের ওপর বসলাম। তারপর শুরু হলো কথাবার্তা।
হুদা: তোরা যেভাবে চেষ্টা করছিস, তাতে কিছু হবে না। লেট আস ইউনাইট অ্যান্ড গিভ হিম এ ব্লো।
বাতেন: ইউনাইট হতে পারি, কিন্তু ব্লো দিতে পারব না। আমরা বিপ্লবে বিশ্বাস করি। তুমি যা বলছ, সে পথ আমাদের নয়।
এভাবে কিছুক্ষণ কথা বলার পর সন্ধ্যা হয়ে এল।তাঁরা দুজন বলাকা বিল্ডিংয়ের দোতলার একটা চায়নিজ রেস্তোরাঁয় খাবার খেলেন। হুদা চলে যাওয়ার সময় বাতেনকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন, ‘কাল-পরশু দুদিন হলে না থাকাই ভালো। বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন। নানা ধরনের চাপ থাকবে। রাতে বাইরে থাকিস।’ হুদা বাতেনকে যোগাযোগের জন্য একটা টেলিফোন নম্বর দিলেন।
বাতেন সে রাতে মুহসীন হলেই ছিলেন।১৪ আগস্ট তিনি আজিমপুর কলোনিতে তাঁর বোনের বাসায় যান এবং সেখানেই রাত কাটান।
১৫ আগস্ট সকালে ঘুম ভাঙতেই রেডিওতে তিনি অভ্যুত্থানের সংবাদ পান। তিনি হেঁটে হেঁটে নিউমার্কেট-নীলক্ষেতের মোড়ে বিউটি রেস্টুরেন্টে যান এবং সেখানে নাশতা করেন। তারপর মুহসীন হলের দিকে রওনা হতেই দেখলেন বেশ কয়েকজন ছাত্র ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছে। তারা অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত।বাতেন এদের মধ্যে ফকির গোলেদার রহমানকে দেখলেন। গোলেদার মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এবং সরকার-সমর্থিত ছাত্রলীগের একজন নেতা গোছের ছিলেন।তাঁর পরনে লুঙ্গি এবং গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি। গোলেদার বললেন, তিনি হলের গ্রিলবিহীন জানালা দিয়ে হল অফিসের একতলার ছাদে লাফিয়ে নেমেছেন এবং এখন যতদূর সম্ভব চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বাতেনকে তিনি বললেন, ‘আমারে মাপ কইরা দিস।’
বাতেন মুহসীন হলে তাঁর কক্ষে গেলেন।তিনি ঘরে জাহাঙ্গীর ও রুবেলকে পেলেন।ওঁরা ওই কক্ষেই থাকতেন। জাহাঙ্গীর গণবাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। বাতেন বললেন, ‘তোরা আমার বোনের বাসায় চলে যা।’ তিনি নিজেই তাঁদের আজিমপুরে বোনের বাসায় নিয়ে এলেন।
বেলা ১১টার দিকে বজলুল হুদা বাতেনের বোনের বাসায় এসে হাজির হলেন।তিনি বাতেনকে

আরো দেখুন

বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা পেল দেড় হাজার রোগী

ডা. এস এ ফারুকের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা পেল দেড় হাজার

আমতলীতে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার, পলাতক জামাতা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি। আমতলীতে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে

মৌসুমী বললেন, ‘আমি দেশের একমাত্র নায়িকা, যাঁর বয়স সবাই জানে’

আজ ৩ নভেম্বর চিত্রনায়িকা মৌসুমীর জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া জনপ্রিয় এই

শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নিতে চিঠি

জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

বিমানবাহিনীর তাহসিফ হ’ত্যা ‘কৌশলে প্রশ্ন এড়িয়েছেন’ দীপ, আবার রিমান্ড চায় পুলিশ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট

দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি

এক মাসে দুই দফা এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানাতে সংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের খালি সিলিন্ডার