স্মৃতিতে বিশ্বকাপ কলামের ইতি টানতে হচ্ছে আজই। কারণ দরজায় কড়া নাড়ছে আরেকটি বিশ্বকাপ। তাই পুরনো নয়। নতুন স্মৃতি নিয়েই লিখবো। ‘আমার দেখা বিশ্বকাপ’ বইতে সব পাবেন আশা করি। এবার ব্রাজিলে বসছে এই আসর। ৩২টি টিম পৌঁছে গেছে ব্রাজিলে। কখনও বৃষ্টি, কখনও প্রচ- গরম। বৃটিশ ট্যাবলয়েডগুলো খেলা নয়, আবহাওয়া নিয়েই ব্যস্ত। তাছাড়া ব্রাজিলে যেভাবে ধর্মঘট চলছে তাতে ফিফার কর্মকর্তারা দারুণভাবে চিন্তিত। পুলিশের তরফে ধর্মঘট হয়ে গেল। অস্বাভাবিক ঘটনা মনে হলেও ব্রাজিলে সবই স্বাভাবিক। সাম্বা নাচের আড়ালে কত কিছু যে হয় তা দেখেছি পৃথিবীর নানা প্রান্তের বড় বড় শহরে। ব্রাজিলের প্রাণ সাম্বা। অব্যাহত ধর্মঘট দেখে একজন ব্রাজিলিয়ান কর্মকর্তা বলেছেন, এটা এক ধরনের ব্ল্যাক মেইলিং। সুযোগ নিচ্ছে ওরা। ফুটবল প-িতরা বলছেন, এমন অবস্থা এর আগে কখনও হয়নি। আখেরে ব্রাজিল সব কিছু খুইয়ে ইমেজ সঙ্কটে পড়তে পারে- এমন আশঙ্কা বৃটিশ প্রেসের। বাংলাদেশ কাঁপছে ফুটবল জ্বরে। ৪০ ডিগ্রি গরমের মধ্যেও প্রস্তুতির কমতি নেই। ঘরে ঘরে পতাকা। রাস্তাঘাটে পতাকার মিছিল। টিভি বিক্রির ধুম পড়েছে। বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের ঘুম হারাম। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকলে খবর আছে। কারণ ১৬ কোটি মানুষই জেগে থাকবে। পাহারা বসাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশে। অতীতের অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নেই তাতে কি? ৩২টি টিমের জার্সি বানিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে ৫শ’ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক বাংলাদেশের তৈরী। পোশাক প্রস্তুতকারকরা দু’পয়সা কামিয়ে নিয়েছেন এই সুযোগে। মন্দ কি? বাংলাদেশ মাঠে না থাকলেও শরীরে রয়েছে সুপারস্টারদের। অগণিত ভক্তের। বুঝতে পারছি এই মুহূর্তে ব্রাজিলে কি হচ্ছে। ব্যস্ততা আমার গতি থামিয়ে দিয়েছে। বড় ইচ্ছে ছিল এবারও ব্রাজিল যাবো। আরও কাছে থেকে দেখবো ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ভক্তদের। যাদের দেখেছি ইতালিতে। সাম্বা নাচ কিভাবে থেমে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার সঙ্গে হেরে যাবার পর। যুক্তরাষ্ট্রে সাক্ষী হয়েছি ব্রাজিলিয়ানদের সাম্বা মিছিলে যোগ দিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকায়ও দেখেছি তাদের অনবদ্য নাচ। কখনও গ্যালারিতে। কখনও রাজপথে। ট্রেনে প্রায় সারা রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি সাম্বা নাচের তালে তালে। বিশ্বকাপের বিউটি হচ্ছে মেক্সিকান গোলের আওয়াজ আর ব্রাজিলিয়ান নাচ। বৃটিশদের আনন্দ কোরাস সুরে গান। হেরে গেলে অবশ্য রীতিমতো দাঙ্গা। সব কিছু ওলটপালট। এদের জন্য প্রতিবারই দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন থাকে। ফিফা বা আয়োজক দেশগুলো বৃটিশ ফ্যানদের নিয়ে তটস্থ থাকে। ব্রাজিলিয়ানরাও অবশ্য সতর্ক। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সে তাদের জাতীয় পতাকায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল ইংলিশ ফুটবল ফ্যানরা। প্রতিশোধ নেয়ার মতো কোন ঘটনা ঘটতে পারে- এমন আশঙ্কা করছেন ব্রাজিলিয়ান নিরাপত্তা কর্মীরা। আগাম সতর্কতা হিসেবে ২৪শ’ বৃটিশ ফ্যানকে ভিসাই দেয়নি তারা। আর্জেন্টিনাকে নিয়েও বৃটিশ গোয়েন্দাদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। বলা হয়েছে, ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে যেন তারা কেউ মুখ না খোলেন। অবশ্য ’৮২ সনের যুদ্ধের সময় তিন ফুটবলার অধিনায়ক জেরার্ড, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড ও রিকি ল্যাম্বার্ট ছাড়া কারও জন্মই হয়নি। ইতিহাস ঘেঁটে কথা বলার সময় কোথায় তাদের। তাই ইংলিশ ফুটবল বসের এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে ফিফা বস সেপ ব্লাটার এখন দুশ্চিন্তায়। ব্রাজিলে শেষ পর্যন্ত সফলভাবে বিশ্বকাপ হবে তো? কাতার নিয়ে না হয় পরে ভাবা যাবে। নরওয়ের দৈনিকের খবর সঠিক কিনা জানি না। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান টাকা নিয়ে ফিফাকে সমর্থন দিয়েছে। ব্রাজিলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাহ্উদ্দিন। জবাব দেননি। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এড়িয়ে গেছেন। এমনটাই লিখেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। ফুটবল নিয়ে জুয়া হয়। শুধু কি জুয়াড়িরা খেলেন? ফুটবলের বসরা টেবিলের নিচ দিয়ে কুৎসিত জুয়ায় লিপ্ত হন।
মৌসুমী বললেন, ‘আমি দেশের একমাত্র নায়িকা, যাঁর বয়স সবাই জানে’