কম দামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎই চ্যালেঞ্জ

• সরকার বিদ্যুৎ খাতে বড় উন্নতি করেছে
• দেশের ৯২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায়
• তবে দেশে এখনো লোডশেডিং রয়ে গেছে
• জেলা–উপজেলা–গ্রামে লোডশেডিং হরহামেশা
• বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশের আপত্তি

বিদ্যুৎ খাতে চারটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে সরকার। এগুলো হলো সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন, দেশব্যাপী সঞ্চালন লাইন বাড়িয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবেশ রক্ষা করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং শীত-গ্রীষ্মে বিদ্যুতের অব্যবহৃত ব্যবহার নিশ্চিত করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির স্থিতিশীল জোগান নিশ্চিত করা গেলে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। দেশে পাঁচটি কয়লাখনি রয়েছে, কিন্তু উত্তোলনপদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক থাকায় কয়লা তোলা যায়নি। ফলে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লা আমদানি করতে হবে চড়া দামে। সাগরে তেল-গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গত ১০ বছরে কয়েকটি বিদেশি কোম্পানিকে কিছু ব্লক ইজারা দেওয়া ছাড়া কার্যত কোনো অগ্রগতি নেই। যদি সাগরে গ্যাস পাওয়া যেত, তাহলে কম দামে পরিবেশ রক্ষা করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি হতে পারত এটি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ৬ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করাই মূল চ্যালেঞ্জ। এ দুটি করা গেলে অব্যবহৃত বিদ্যুৎ ব্যবহার ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন তেল-গ্যাস সুরক্ষা নিয়ে আন্দোলনকারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক আনু মুহাম্মদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সরকার দেশি ও বিদেশি বড় কোম্পানির স্বার্থ মাথায় রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা করেছে, সে কারণে পরিবেশ রক্ষা করে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা করে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হলে জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করে সাগরের গ্যাস উত্তোলন করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সৌর, বর্জ্য ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের বাস্তব পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি কয়লা ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকে ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।

বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে। তবে প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, বিদ্যুৎ বিভাগে বড় ধরনের দুর্নীতি নেই। মাঠপর্যায়ে কিছু দুর্নীতি এখনো রয়ে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সব সেবা যদি অনলাইনভিত্তিক করা যায়, তাহলে এই দুর্নীতিও শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শক্ত চ্যালেঞ্জ
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ছিল প্রতি ইউনিট ২ টাকা ৬১ পয়সা। বর্তমানে ব্যয় ৬ টাকা ২৫ পয়সা। প্রায় এক দশকে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ১৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এর কারণ মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২৯ শতাংশের জ্বালানি হচ্ছে উচ্চমূল্যের তেল। গ্যাস থেকে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ২ টাকা ৮০ পয়সা হলেও গ্যাসের অভাবে সারা বছর ১৩০০ থেকে ১৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকে।

এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার বড় বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। ছোট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ৩৮ পয়সা। বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর নির্মাণকাজ মাত্র শুরু হয়েছে।

২০১০ সালে সরকার জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকার সহায়তায় নতুন করে ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা করে। এ পরিকল্পনা সংশোধন করে পরে ২০১৬ সালে একটি ২৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়। ওই পরিকল্পনায় ২০৪১ সাল পর্যন্ত ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। এবার মূলত আমদানি করা কয়লা আর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিকে জ্বালানি ধরা হয়েছে। আর তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে ভাড়াভিত্তিক বা রেন্টালের ছোট তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে উৎপাদনের ব্যয় কমবে। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এর আগে এ সরকারের করা দুটি মহাপরিকল্পনার একটিও বাস্তবায়ন করা যায়নি।

পাহাড়ি নদীতে ড্যাম বানিয়ে ভুটান, নেপাল ও ভারত বিপুল পরিমাণ জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে। নেপাল থেকে এই বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারলে দাম কম পড়বে। গত বছরের ১০ আগস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভারত থেকে সরকার মোট ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার আরেকটি উপায় সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ওপর জোর দেওয়া। সাগরে তেল-গ্যাস পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় কমে যাবে। গত ১০ বছরে এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি।

স্থলভাগেও ব্যাপক আকারে তেল-গ্যাসের অনুসন্ধান হচ্ছে না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্স তার ক্ষমতা অনুযায়ী যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ
দেশের ৯২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এলেও এখনো লোডশেডিং রয়ে গেছে। ঢাকাসহ বড় শহরে অপেক্ষাকৃত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে লোডশেডিং হচ্ছে হরহামেশা। পিডিবির কাছে যথেষ্ট বিদ্যুৎ থাকলেও তা সারা দেশে পৌঁছে দেওয়ার মতো সঞ্চালন লাইন, বিতরণ লাইন, ট্রান্সফরমার, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের অভাব রয়েছে। সরকার ১৭ হাজার ৬৮৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেও এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ গ্রাহক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেনি। এটা করতে সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে ২৪০০ কোটি ডলার বা ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ দরকার।

বিদ্যুৎসচিব আহমদ কায়কাউসও বললেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ। এটি করতে গেলে যে বিনিয়োগ করতে হবে, তাতে আবার বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাবে। একদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, অন্যদিকে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বিদ্যুতের দাম রাখা—এর মধ্যে ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশের আপত্তি
সুন্দরবনের পাশে বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে কেন্দ্র না করার পক্ষে জনমত গড়ে ওঠে। জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থাও (ইউনেসকো) রামপাল কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের অনুরোধ করেছিল। এই কেন্দ্রের কাজ ৩৭ শতাংশ শেষ হয়েছে।

পটুয়াখালীর পায়রা, কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। বরগুনার তালতলীতে আইসোটেক ইলেকট্রিফিকেশন কোম্পানি’ বরিশাল পাওয়ার নামে ৩০৭ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানা লাগোয়া বন বিভাগের সৃজিত বনভূমি রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য সাড়ে তিন শ একর জায়গা ইতিমধ্যে ভরাট করেছে আইসোটেক।

আইসোটেকের এ প্রকল্প থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় সংরক্ষিত বন টেংরাগিরির দূরত্ব ৪ কিলোমিটারের কম। আর নদীর ওপারে বরগুনার পাথরঘাটার সংরক্ষিত লালদিয়া বনের দূরত্ব ১ কিলোমিটারের কম। এই অঞ্চলের পটুয়াখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড। একই অঞ্চলে একের পর এক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দেওয়ায় পুরো অঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদিত হয়। ফলে ইলিশের প্রজনন-উৎপাদনও ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও পরিবেশবাদীদের আপত্তি রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলছেন, পরিবেশ রক্ষা করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প থাকলেও সরকার সেদিকে যায়নি। সৌরবিদ্যুতের কথা বললে জমির দাম বেশি বা জমিসংকটের কথা বলা হয়।

বিদ্যুৎসচিব বললেন, ভারতে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেখান থেকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ আমদানির চেষ্টা চলছে।

বিদ্যুৎ আছে, ব্যবহারকারী নেই
বিদ্যুৎ–ঘাটতির দেশে বিদ্যুতের অব্যাহত ব্যবহারকারী বা গ্রাহক নেই—আশ্চর্যজনক মনে হলেও এটাই বাস্তবতা। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, তার বড় অংশই রাতের বেলা ও শীতকালে ব্যবহার করা হয় না।

গত ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের ‘লোড কার্ভ ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক বৈঠকের তথ্য হলো, বাংলাদেশে বিদ্যুতের ৩৩ শতাংশ ব্যবহার করে শিল্পের গ্রাহকেরা। আবাসিকে ব্যবহার করা হয় ৫৩ শতাংশ। মৌসুমি কৃষিতে ৩ শতাংশ ও বাণিজ্যিক (হোটেল, বিপণি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যা রাত আটটার পর অধিকাংশ বন্ধ থাকে) ব্যবহার করা হয় ৯ শতাংশ বিদ্যুৎ। ফলে বেশির ভাগ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহক রাত ১০টার পর যখন ব্যবহার কমিয়ে দেয়, তখন একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়।

গ্রীষ্মকালে সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুতের বেশি ব্যবহার হয়। এ সময় চাহিদা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াটে। রাত ১১টা থেকে চাহিদা কমতে থাকে। আর শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা সন্ধ্যাবেলা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ৭ হাজার মেগাওয়াটে নেমে আসে।

কিন্তু বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সরকারের চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদন না করে বসে থাকলেও কেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতার ভাড়া যা ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে পরিচিত, সেটি দিতে হয় সরকারকে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদার এই ওঠানামাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র (বেজ লোড পাওয়ার স্টেশন) একবার চালু করলে যেমন হুট করে বন্ধ করা যায় না, তেমনি শিগগিরই চালুও করা যায় না। সে কারণে পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ী ও পাবনার রূপপুরের মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে এলে এ পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে, সে ক্ষেত্রে বিদ্যুতের চাহিদা না বাড়লে কেন্দ্রগুলো উৎপাদন না এসে বসে থাকতে হতে পারে বলেও মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ম. তামিম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শীত ও গ্রীষ্মে চাহিদার তারতম্যের বিষয়ে দুটি প্রস্তাব আছে আমার। একটি হলো শীতকালে সবজি ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের কাজে যারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে, তাদের কম দামে বিদ্যুৎ দেওয়া এবং গ্রীষ্মে পিক আওয়ারে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ব্যবহার না করা। দ্বিতীয়টি হলো, গ্রীষ্মকালে আমাদের সরকারি-বেসরকারি অফিস ও স্কুলের সময় এগিয়ে আনা আর শীতকালে পিছিয়ে দেওয়া। এতে মানুষ গরমকালে দ্রুত ঘুমাতে যাবেন, তাতে রাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুতের বহুমাত্রিক ব্যবহার বাড়াতে হবে। যেমন বৈদ্যুতিক ট্রেন, বাস, গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো। পাশাপাশি শিল্পকারখানা স্থাপন করা।

এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শীতকালে এবং অফ পিক আওয়ারে শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার কথাও ভাবছে সরকার। এ ছাড়া শীতকালে ভারত, ভুটান ও নেপালে বিদ্যুৎ রপ্তানি করা যায় কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অফ পিক আওয়ার রাতে ভারতে বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়টিও সরকারের মাথায় রয়েছে। সেই লক্ষ্যে সরকার বিদ্যুৎ আইন পরিবর্তন করে তাতে রপ্তানির বিধান যুক্ত করেছে।

আরো দেখুন

বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা পেল দেড় হাজার রোগী

ডা. এস এ ফারুকের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা পেল দেড় হাজার

আমতলীতে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার, পলাতক জামাতা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি। আমতলীতে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে

মৌসুমী বললেন, ‘আমি দেশের একমাত্র নায়িকা, যাঁর বয়স সবাই জানে’

আজ ৩ নভেম্বর চিত্রনায়িকা মৌসুমীর জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া জনপ্রিয় এই

শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নিতে চিঠি

জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

বিমানবাহিনীর তাহসিফ হ’ত্যা ‘কৌশলে প্রশ্ন এড়িয়েছেন’ দীপ, আবার রিমান্ড চায় পুলিশ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট

দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি

এক মাসে দুই দফা এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানাতে সংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের খালি সিলিন্ডার