ক্রিজে ব্যাটিংয়ের সময় রেকর্ডের কথা মাথায় থাকে না খেলোয়াড়দের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এমন কথা বললেন ইমরুল কায়েসও। তবে চট্টগ্রামে ইমরুল কায়েসের আউট নিয়ে আফসোস হতে পারে ভক্তদের। এদিন অল্পের জন্য গর্বের এক বিশ্বরেকর্ড হাতছাড়া করেন ইমরুল কায়েস। তবে চট্টগ্রামে ইনিংস শেষে ইমরুলের প্রাপ্তিটা বিশালই। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দ্বিতীয় সর্বাধিক রানের রেকর্ড ইমরুলের। সদ্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে ইমরুল কায়েসের সংগ্রহ ৩৪৯ রান। তিন ম্যাচের সিরিজে ৩৬০ রান নিয়ে তালিকার শীর্ষে পাকিস্তানি তারকা বাবর আজম। ২০১৬-১৭ মৌসুমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হোম সিরিজের তিন ওয়ানডেতেই সেঞ্চুরি করেন বাবর।সিরিজে তিন সেঞ্চুরির সম্ভাবনা ছিল ইমরুলেরও। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ইমরুলের ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ১৪৪, ৯০ ও ১১৫ রান। আর শুক্রবার মাত্র ১২ রানের জন্য বিশ্বরেকর্ডটি নিজের করে নিতে পারেন নি ইমরুল। ইমরুল যখন আউট হন তখনও জয়ের জন্য বাংলাদেশের ১৩ রানের দরকার ছিল। তবে চট্টগ্রামে ইনিংস শেষে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি ককের কীর্তি ছাড়িয়ে যান ইমরুল। ২০১৩-১৪’র মৌসুমে নিজ মাটিতে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩৪২ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ডি কক। এমন তালিকায় সেরা পাঁচে রয়েছে তামিম ইকবালের নামও। ২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজ মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩১২ রান নিয়ে তামিম রয়েছেন তালিকার পঞ্চম স্থানে।
শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে শন উইলিয়ামসের সেঞ্চুরিতে ভর করে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ পৌঁছে ২৮৬/৫-এ। আর জবাবে ইনিংসের একেবারে প্রথম বলে উইকেট খুইয়ে দলের চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দেন ওপেনার লিটন কুমার দাস। তবে পরে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস যা করলেন তা ইতিহাস। দ্বিতীয় উইকেটে ২২০ রানের জুটি গড়েন সৌম্য-ইমরুল। নিজেদের উইকেট দেয়ার আগে উভয়েই পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। ১১২ বলে ১১৫ রান করেন ইমরুল কায়েস। এতে ইমরুল হাঁকান ১০টি চার ও দুটি বাউন্ডারি। মুশফিকুর রহীম ২৮ ও মোহাম্মদ মিঠুন ৭ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন। এতে ৪৭ বল হাতে রেখে সাত উইকেটে জয় দেখে বাংলাদেশ। ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার করেন ১১৭ রান। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির তৃতীয় ঘটনা এটি। ২০১৫তে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ইকবাল-মুশফিকুর রহীম ও ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি দেখান সাকিব আল হাসান-মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
২০১৭তে টাইগারদের হতাশাজনক দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে দল থেকে বাদ পড়েন ইমরুল কায়েস। তবে এশিয়া কাপে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ইনজুরিতে দলে সুযোগ আসে ইমরুলের। আর দেশ থেকে আরব আমিরাতে উড়ে গিয়েই আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ম্যাচজয়ী ৭২ রানের ইনিংস খেলেন ইমরুল। আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেও সুযোগ পান যথারীতি। জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার পর সংবাদ সম্মেলনে ইমরুল কায়েসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তার ব্যাটের ধারাবাহিকতা নিয়ে। জবাবে ইমরুল বলেন ‘ভাই, আমাকে খেলতে দেন। আমি অত কিছু জানি না। এত বড় খেলোয়াড় হইনি এখনো। তিনটা ম্যাচ ভালো খেলেছি, চেষ্টা করবো বাকি ম্যাচগুলো ভালো খেলার।’ আর রেকর্ড প্রসঙ্গে ইমরুল বলেন, এটা (রেকর্ড) মাথায় ছিল না। জানতাম না। আসলে খেলার সময় কোন্টা রেকর্ড হচ্ছে, কী হচ্ছে, এসব মাথায় থাকে না। জাস্ট ফোকাস করি বল টু বল। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক ইমরুল কায়েসের। ৭৬ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি ইমরুলের চতুর্থ সেঞ্চুরি।
তিন ম্যাচের সিরিজে সর্বাধিক রান
খেলোয়াড় সময় সিরিজ রান গড়
বাবর আজম (পাকিস্তান) ২০১৬-১৭ পাকিস্তান-ও.ইন্ডিজ ৩৬০ ১২০.০০
ইমরুল কায়েস (বাংলাদেশ) ২০১৮-১৯ বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ৩৪৯ ১১৬.৩৩
কুইন্টন ডি কক (দ. আফ্রিকা) ২০১৩-১৪ দ. আফ্রিকা-ভারত ৩৪২ ১১৪.০০
মার্টিন গাপটিল (নিউজিল্যান্ড) ২০১৩ ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ৩৩০ ৩৩০.০০
তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ) ২০১৪-১৫ বাংলাদেশ-পাকিস্তান ৩১২ ১৫৬.০০