আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করছে মিয়ানমার

84328 201709asia burma mineআন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। পলায়নরত রোহিঙ্গাদের পথে পেতে রেখেছে স্থল বোমা। এতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের জীবন ভয়াবহ বিপদের মুখে। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। অবিলম্বে মানুষের প্রাণহানীতে ব্যবহৃত এসব স্থল বোমা ব্যবহার বন্ধের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশপাশি স্থল বোমা নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক ১৯৯৭ সালের ‘মাইন ব্যান ট্রিটি’ বা স্থল বোমা বন্ধ সংক্রান্ত চুক্তিতে যুক্ত হতে আহ্বান জানানো হয়েছে মিয়ানমার সরকারের প্রতি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন, নৃশংসতা থেকে পালাতে গিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা এই স্থল বোমার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর উচিত এসব অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করা। কারণ, এসব অস্ত্র মানুষের প্রাণহানী ঘটায়, বিকলাঙ্গ করে দেয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার রিপোর্টে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা দিয়ে বলেছে, নিরপেক্ষ সংবাদ, ছবি ও ভিডিও থেকে এটা স্পষ্ট যে, মিয়ানমারের সেনারা বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে প্রাণঘাতী স্থল বোমা পেতে রেখেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে রাস্তার পাশেও স্থল বোমা পেতে রেখেছে সেনারা। ওদিকে অবকাঠামো ও নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) নামে। বুথিডাং ও রাথেডাং এলাকার দু’জন রোহিঙ্গা শরণার্থী বলেছেন, গ্রামে সেনাবাহিনী প্রবেশ ও হামলার আগে রাস্তার পাশে স্থল বোমা পেতে রাখতে দেখেছেন সেনাবাহিনীকে। তাদের একজন ৩৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, এক প্রতিবেশীরছেলেকে এমনই একটি স্থল বোমার ওপর পা ফেলতে দেখেছেন তিনি। এতে ওই ছেলেটির ডান পা উড়ে গেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ২০০ মিটার দূরে তাউং পাইও লেট ইয়ার এলাকাকে বেশির ভাগ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের পথ হিসেবে ব্যবহার করে। ৪ঠা সেপ্টেম্বর সেখানে একটি স্থলবোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। হিউম্যান রাইট ওয়াচ দেখতে পেয়েছে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো থেকে আগুন, ধোয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে সেনাবাহিনী। সীমান্তের কাছে ওই একই পয়েন্টে তিনটি আলাদা স্থল বোমা বিস্ফোরিত হয় পরের দিনই। তাতে তিনজন রোহিঙ্গা গুরুত্বর আহত হন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে দু’জন রোহিঙ্গা বলেছেন, ৪ঠা সেপ্টেম্বরের বিস্ফোরণের আগে তাউং পাইও লেট ইয়ার বসতি এলাকায় সেনাবাহিনীর পোশাক পরা কিছু মানুষকে দেখা গেছে মাটিতে স্থল বোমা পেতে রাখতে। ৪ঠা সেপ্টেম্বর সীমান্তের কাছে সড়কে টহল দিতে দেখা গেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে। সেখানে নো ম্যানস ল্যান্ডে কয়েকজন সেনা সদস্যকে দেখা গেছে হাঁটু গেড়ে বসে মাটি খুড়ছেন। এরপর কালোমতো কিছু একটা মাটিতে পুতে রাখছেন। ২৫ শে আগস্ট আরসার উগ্রপন্থিদের হামলার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ অভিযান শুরু করেছে। জাতিসংঘ একে জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহারে অগ্নিসংযোগ, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী জঘন্য সব অপরাধ ঘটিয়ে চলেছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে কমপক্ষে চার লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এর প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি এর আগেই আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তারা আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি পাবলিক মিটিং করতে এবং মিয়ানমারে সেনাবাহিনী যে জাতি নিধন চালিয়ে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরো কঠোর অবরোধ আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ দিতে। অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে।
২০১৭ সালের এপ্রিলে মিডিয়ার খবর অনুযায়ী মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত এলাকা থেকে স্থল বোমা ও বিস্ফোরক ডিভাইস সরিয়ে ফেলতে সম্মত হয়। তা সত্ত্বেও মিয়ানমার সীমান্তে স্থল বোমা পেতেছে। মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের সীমান্তে স্থল বোমা পেতে রাখার প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ সরকার ৬ই সেপ্টেম্বর। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সহিংসতা থেকে পলায়নরত রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধ করতে সীমান্তে স্থল বোমা পাতছে মিয়ানমার। বিজিবি কর্মকর্তাদের মতে, স্থল বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ জন। ১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে অসংখ্য স্থানে প্রাণঘাতী স্থল বোমা অব্যাহতভাবে ব্যবহার করছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরাÑ এমন রিপোর্ট করে ল্যান্ডমাইন মনিটর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর ব্যবহার কমিয়ে আনা হয়েছে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিগত সংখ্যালঘু সশস্ত্র গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেনাবাহিনী অব্যাহতভাবে স্থল বোমা ব্যবহার করছে বলে পার্লামেন্টকে জানান তখনকার প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপমন্ত্রী মেজর জেনারেল মিন্ট নয়ে।  কিন্তু ১৯৯৭ সালের স্থল বোমা নিষিদ্ধকরণ চুক্তির অধীনে প্রাণঘাতী স্থলবোমা ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ বাংলাদেশ। তবে মিয়ানমার এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে নি। তাই তারা এই বেআইনী অস্ত্রটি ব্যবহার করছে বেসামরিক ও লড়াইরতদের বিরুদ্ধে।

আরো দেখুন

চরফকিরায় ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন, সংগঠন শক্তিশালী করার তাগিদ

রমজান আলী রানা, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চরফকিরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের উদ্যোগে কর্মী সম্মেলন

রাশেদ খানকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবী বাংলাদেশ লেবার পার্টির

রাশেদ খানকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবী বাংলাদেশ লেবার পার্টির —————– নিউজ ডেস্ক,

পরীমণি গালিগালাজ করে সাংবাদিকদের ফোন কেড়ে নিলেন, দেহরক্ষীর মারধরে আহত ৪

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালত থেকে বের

আমতলীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।। আমতলীতে আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায়

বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা পেল দেড় হাজার রোগী

ডা. এস এ ফারুকের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা পেল দেড় হাজার

আমতলীতে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার, পলাতক জামাতা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি। আমতলীতে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে